Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

আম সুরক্ষায় ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগানগুলোতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুরু হয়েছে 'ফ্রুট ব্যাগিং' প্রযুক্তির ব্যবহার। চীনের এ প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের ফলে আমচাষিরা এরই মধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করেছেন।

আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ড. সরফ উদ্দীন জানান, চীনের ফ্রুট ব্যাগিং আম উৎপাদনের জন্য একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি। ফ্রুট ব্যাগিং বলতে গাছের ফল বিশেষ ধরনের ব্যাগ দ্বারা আবৃত করাকে বোঝায়। ফল সংগ্রহ করা পর্যন্ত ফলসহ গাছেই থাকে ব্যাগটি। বিভিন্ন জাতের ফলের জন্য বিভিন্ন রঙ এবং আকৃতির হয়ে থাকে এই ব্যাগ। তবে আমের জন্য দুই ধরনের ব্যাগ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। রঙিন আমের জন্য সাদা রঙ এবং অন্য সব জাতের আমের জন্য বাদামি রঙের ব্যাগ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত বছর ব্যাপক সাফল্য পাওয়ার পর এবার ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি জেলার সর্বত্র আমচাষিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। চীন থেকে বিশেষ ধরনের এই ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি আমদানি করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রবিউল এন্টারপ্রাইজ।

আম নিয়ে গবেষণাকারী বিজ্ঞানীরা জানান, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আম উৎপাদনে একদিকে যেমন ক্ষতিকারক রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস পাবে, তেমনি বিদেশের বাজারে এ দেশের সুমিষ্ট আম রফতানির দ্বার উন্মোচিত হবে। ফলে আম রফতানিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২৪ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বর্তমানে আমবাগান রয়েছে। উত্তরোত্তর আমের বাগানে গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বাণিজ্যিক কারণে। আমচাষিরা আগের চেয়ে আরও যত্নশীল হয়েছেন বাগান পরিচর্যায়। আমে মাছি, বিভিন্ন পোকা বা ফ্রুট ফ্লাইয়ের আক্রমণ রোধে কীটনাশক ব্যবহারের হার অনেক বেড়ে গেছে। অধিক ফলন পেতে ভালো-মন্দ বাছবিচার না করে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে আমের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে পরিবেশের ওপরও পড়ছে এর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রতিক্রিয়া। মানুষের স্বাস্থ্যকেও করে তুলছে ঝুঁকিপূর্ণ।

এ অবস্থায় মাছি-পোকাসহ বিভিন্ন ছত্রাকের আক্রমণ থেকে বাগানের গাছ ও আমের ফলন রক্ষায় গত বছর চীনের 'ফ্রুট ব্যাগিং' প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা শুরু করে এ জেলার আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র। চীন, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের আম উৎপাদনকারী দেশের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে এই বিশেষ পদ্ধতির সম্ভাবনা যাচাই করেন বিজ্ঞানীরা। গত বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ১৮টি জাতের আমগাছে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাফল্য পাওয়া যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাগিং করা আম দীর্ঘদিন ঘরে রেখে খাওয়া যায়। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে আম সংরক্ষণ করতে ফরমালিন নামক বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রয়োজন হবে না। তা ছাড়া বাইরের বিভিন্ন ধরনের আঘাত, পাখির আক্রমণ, প্রখর সূর্যতাপ এবং রোগ ও পোকামাকড়ের সংক্রমণ থেকে সহজেই রক্ষা করা সম্ভব হবে আম। নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাগিং করা গেলে কোনো রাসায়নিক স্প্রে ছাড়াই ক্ষতিকর পোকার হাত থেকে আম রক্ষা করা সম্ভব। সেই আম সংরক্ষণ নিয়েও থাকবে না কোনো জটিলতা। যা স্বাস্থ্যের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ বলে দাবি করেন তিনি।

ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে বিজ্ঞানী ড. সরফ জানান, ৩৫-৪০ দিন বয়সের আম ব্যাগিং করার উপযুক্ত সময় । তবে এর পরেও ব্যাগিং করা যায়। ব্যাগিং করার আগে আমগাছে দু-তিনবার হালকা কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্টেপ্র করা যেতে পারে। ভেজা অবস্থায় ফল কোনো প্রকারেই ব্যাগিং করা যাবে না বলে সতর্ক করেন তিনি। এ ছাড়া ব্যাগিং করার আগেই গাছের মরা-শুষ্ক মুকুল বা পুষ্পমঞ্জরির অংশবিশেষ, পাতা বা উপপত্র ছিঁড়ে ফেলতে হবে এবং আমটি ব্যাগের মাঝ বরাবর যেন থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যাগের ওপরের প্রান্তটি ভালোভাবে মুড়িয়ে দিতে হবে, যেন পানি বা অন্যকিছু প্রবেশ করতে না পারে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে এ ব্যাগ উৎপাদন না হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক প্রতিষ্ঠান এই ব্যাগ চীন থেকে সরাসরি আমদানি করে কৃষকদের সরবরাহ করছে। প্রতিটি সাদা ব্যাগ ৩ টাকা এবং বাদামি ব্যাগের খুচরা মূল্য ৪ টাকা রাখা হয়েছে।

তবে বহুজাতিক কীটনাশক উৎপাদনকারী কোম্পানি সিনজেনটার কৃষিবিদ তোফাজ্জল হোসেন খান ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, এ প্রযুক্তি বাংলাদেশে আমের জন্য কার্যকর নয়। কারণ আমগাছ বড় হওয়ায় গাছের প্রতিটি আমে এ ব্যাগ পরিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। তা ছাড়া উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাবে আম চাষে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ড. সরফ উদ্দীন বলেন, পরীক্ষামূলক শুরু হয়েছে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তির ব্যবহার। আগামীতে আরও উন্নত করা হবে এ প্রযুক্তি। যেন প্রতিটি বাগানে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ গাছে এই ব্যাগ ব্যবহার করা সম্ভব হয় এবং এ থেকে কৃষকরা ব্যাপক সুফল পেতে পারেন।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত ‘খিরসাপাত’ জাতের আম জিআই’ (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে গেজেট জারি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিবন্ধন পেলে সুস্বাদু জাতের এই আম ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম’ নামে বাংলাদেশসহ বিশ্ব বাজারে পরিচিতি লাভ করবে।  এই আমের ...
আম ও আমজাত পণ্য রপ্তানী বিয়য়ে সেমিনার হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় রপ্তানীর প্রশিক্ষন কর্মসুচীর আওতায় শনিবার সকালে দিনব্যাপী সেমিনারের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ জাহিদুল ইসলাম। আলোচনার মাধ্যমে আম রপ্তানী ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের ...
আমের মৌসুম বাড়ছে আরও এক মাস  কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করে আম পাকা প্রায় এক মাস বিলম্বিত করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন এক উদ্ভিদবিজ্ঞানী আম পাকা শুরু হলে আর ধরে রাখা যায় না। তখন বাজারে আমের সরবরাহ বেড়ে যায়। যেকোনো দামেই বেচে দিতে হয়। তাতে কোনো কোনো বছর চাষির উৎপাদন ...
বাড়ছে আমের চাষ। মানসম্পন্ন আম ফলাতে তাই দরকার আধুনিক উত্পাদন কৌশল। আম চাষিদের জানা দরকার কীভাবে জমি নির্বাচন, রোপণ দূরত্ব, গর্ত তৈরি ও সার প্রয়োগ, রোপণ প্রণালী, রোপণের সময়, জাত নির্বাচন, চারা নির্বাচন, চারা রোপণ ও চারার পরিচর্যা করতে হয়। মাটি ও আবহাওয়ার কারণে দেশের ...
প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন দেশের পর্যটকেরা ভারতে আসা যাওয়া করেছেন। তাদের বিবেচনায় আম দক্ষিন এশিয়ার রাজকীয় ফল। জগৎ বিখ্যাত পর্যটক ফাহিয়েন, হিউয়েন সাং, ইবনে হাষ্কল, ইবনে বতুতা, ফ্লাঁয়োসা বর্নিয়ের এরা সকলেই তাদের নিজ নিজ কর্মকান্ড ও লেখনির মাধ্যমে আমের এরুপ উচ্চ গুনাগুনের ...
রীষ্মের এই দিনে অনেকেরই পছন্দ আম।এই আমের আছে আবার বিভিন্ন ধরণের নাম।কত রকমের যে আম আছে এই যেমনঃ ল্যাংড়া,ফজলি,গুটি আম,হিমসাগর,গোপালভোগ,মোহনভোগ,ক্ষীরশাপাত, কাঁচামিঠা কালীভোগ আরও কত কি! কিন্তু এবারে বাজারে এসেছে এক নতুন নামের আর তার নাম 'বঙ্গবন্ধু'। নতুন নামের এই ফলটি দেখা ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২