Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

ফ্রুট ব্যাগিং: আমে কাঙ্ক্ষিত রং, উল্লসিত আমচাষি

পোকার আক্রমণ ও রোগ-বালাই থেকে রক্ষা করতে গত বছর থেকে শুরু হয়েছে আমে ফ্রুট ব্যাগিং। সে বছর সীমিত আকারে এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলেও এবার দেশের আটটি জেলায় বেশ জোরেসোরেই আমে ফ্রুট ব্যাগিং শুরু হয়েছে।

এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে শুধু বিষমুক্ত নয়, আমের কাঙ্খিত রংও পাওয়া যাচ্ছে। ব্যাগিং করা আমের বাজার মূল্যও দ্বিগুণ। তাই উল্লসিত আমচাষিরা।
  চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, কানসাট, ভোলাহাট ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর ব্যাপক হারে আমে ব্যাগ পরানো হয়েছে।

ব্যাগটি নিয়ে গবেষণা ও বাংলাদেশে এর সফল প্রয়োগকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মো. শরফ উদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, এবার এখন পর্যন্ত শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জেই ১০ লাখ আমে ব্যাগ পরানো হয়েছে। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত তা ২৫ লাখে গিয়ে পৌঁছাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
  শরফ উদ্দিন আরও বলেন, গত ২/৩ বছরে কীটনাশক আর ফরমালিনের ভয়ে মানুষ মৌসুমি ফল খাওয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন। চাষিরা চরম আতঙ্কিত, হতাশা আর ক্ষতির মুখে পড়ে গিয়েছিলেন। সে সময় তিনি চীনে আম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে যোগদান করে বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন। তখন চীনের এক বিজ্ঞানী আমে ব্যাগিংয়ের পরামর্শ দেন। এক বছর পরীক্ষামূলক ব্যবহারের পর গত বছর চীন থেকে ব্যাগ আমদানি করে আমে ব্যাগিং করা হয়। এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহারাজপুরের চাঁপাই অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এ ব্যাগ তৈরি করছে।

আগে ক্ষতিকর পোকা-মাকড়ের হাত থেকে আমকে রক্ষা করতে ও কাঙ্খিত রং পেতে প্রজাতি ভেদে ১৫ থেকে ৬২ বার কীটনাশক ও বালাইনাশক স্প্রে করা হতো। সেখানে তিনবার স্প্রে করে ব্যাগ পরানো হলে কাঙ্খিত ফলন ও রং পাওয়া যায়।

তিনি যোগ করেন, প্রজাতি ভেদে ৪২ থেকে ১২০ দিন পর্যন্ত আমে ব্যাগ পরিয়ে রাখতে হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের আমচাষি আব্দুল মতিন ব্যাগিং করা প্রসঙ্গে বাংলানিউজকে বলেন, ব্যাগের দাম একটু বেশি মনে হলেও যেহেতু এক মৌসুমে দুই বার ও ব্যাগটি ছিড়ে না যাওয়া পর্যন্ত পরবর্তী মৌসুমেও ব্যবহার করা যাবে, তাই খরচটি গায়ে লাগবে না। আর এতে কীটনাশক ও বালাইনাশকের ব্যবহার অনেক কম হওয়ায় আম উৎপাদনের খরচ কমে আসবে।

শিবগঞ্জ এলাকার আমচাষি শামিম খান ২৫ দিন ব্যাগিং করা আমের রং যখন বাংলানিউজকে দেখাচ্ছিলেন, তখন তার চোখ চিক চিক করছিল আর খুশিতে মুখ ভরে উঠছিল। তিনি বলেন, ‘দেখছেন, ২৫ দিনেই কি কালার ধরেছে। ৪০ দিন এ ব্যাগ পরিয়ে রাখলে কেমন কালার হবে কল্পনা করতে পারছেন! গত বছর এ সাইজের আম ১ হাজার ৬শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। এবার এক ব্যাপারির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, ব্যাগিং করা আম ২ হাজার ৮শ’ টাকা দাম দেবেন তিনি’।

শুধু মতিন আর শামিমই নন, সব ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়া প্রায় একই ধরনের। কীটনাশক, বালাইনাশক আর ফরমালিন আতঙ্কের মাঝে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি পেয়ে উল্লসিত চাষিরা। নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত ‘খিরসাপাত’ জাতের আম জিআই’ (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে গেজেট জারি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিবন্ধন পেলে সুস্বাদু জাতের এই আম ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম’ নামে বাংলাদেশসহ বিশ্ব বাজারে পরিচিতি লাভ করবে।  এই আমের ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সারাদেশের ন্যায় মত চাঁপাইনবাবগঞ্জেও টানা ৭দিন ধরে প্রবল বর্ষনের কারণে আম ব্যবসায়ী ও আম চাষীদের মাথায় হাত পড়েছে। টানা বর্ষনের কারনে আম ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে আম পাড়তে পারছেন না। অন্যদিকে গাছে পাকা আম নিয়েও বিপাকে পড়েছে আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। ফলে দুর্যোগপূর্ণ ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ভোলাহাট আম ফাউন্ডেশনে উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে আম বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে আমচাষীদের নিয়ে পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী ও সভা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সকাল থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী চলা বিভিন্ন প্রদর্শনীতে এলাকার আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা অংশ ...
বাড়ছে আমের চাষ। মানসম্পন্ন আম ফলাতে তাই দরকার আধুনিক উত্পাদন কৌশল। আম চাষিদের জানা দরকার কীভাবে জমি নির্বাচন, রোপণ দূরত্ব, গর্ত তৈরি ও সার প্রয়োগ, রোপণ প্রণালী, রোপণের সময়, জাত নির্বাচন, চারা নির্বাচন, চারা রোপণ ও চারার পরিচর্যা করতে হয়। মাটি ও আবহাওয়ার কারণে দেশের ...
ফলের রাজা আম এ কথাটি যথাযথই বাস্তব। ফলের মধ্যে এক আমেরই আছে বাহারি জাত ও বিভিন্ন স্বাদ। মুখরোচক ফলের মধ্যে অামের তুলনা নেই। মৌসুমি ফল হলেও, এর স্থায়িত্ব বছরের প্রায় তিন থেকে চারমাস। এছাড়া ফ্রিজিং করে রাখাও যায়। স্বাদ নষ্ট হয় না। আমের ফলন ভালো হয় রাজশাহী অঞ্চলে। ...
ইসলামপুরের গাইবান্ধা ইউনিয়নের আগুনেরচরে একটি আম গাছের গোড়া থেকে গজিয়ে উঠেছে হাতসদৃশ মসজাতীয় উদ্ভিদ বা ছত্রাক। ওই ছত্রাককে অলৌকিক হাতের উত্থান এবং ওই হাত ভেজানো পানি খেলে যেকোন রোগ ভাল হয় বলে অপপ্রচার করছে স্থানীয় ভ- চক্র। আর ওই ভ-ামির ফাঁদে পা দিয়ে প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছেন ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২