Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

জমজমাট আমের বাজার

মাথার ওপরে কাঠফাটা রোদ, পায়ের নিচে ধুলো। কখনও আচমকা বৃষ্টি। তখন পায়ের নিচে কাঁদা। জৈষ্ঠ্যের এমন বৈচিত্র্যময় দিনে জমে উঠেছে রাজশাহীর আমের বাজারগুলো। ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে এবার আমের ক্ষতি হলেও ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় খুশি চাষিরা।

 

রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজারে। এ বাজারের আশপাশের সড়কগুলোতে এখন শুধুই চোখে পড়ছে আমভর্তি ভ্যান। বাগানের কাঁচা-পাকা আম নিয়ে সব ভ্যানের গন্তব্য বানেশ্বর বাজার।

সোমবার দুপুরে হাটে গিয়ে দেখা গেল, বাজারে উঠেছে নানা জাতের আম। খোলা আকাশের নিচে ভ্যানের ওপর সাজিয়ে আম বিক্রি করছেন প্রায় চার শতাধিক ব্যবসায়ী।

সপ্তাহের সাতদিনই এখন ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বাজারটি। রোজার মধ্যেও বিকিকিনিতে ব্যস্ত সবাই। হিমসাগর, গোপালভোগসহ নানা জাতের আম এই বাজার থেকেই রওনা দিচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

 

বানেশ্বর বাজারের আশপাশে রয়েছে অন্তত ৫০টি আমের আড়ৎ। বেশ কয়েকটি আড়ৎ ঘুরে দেখা গেল, সবগুলোই ভরে উঠেছে গায়ে আঠা লেগে থাকা টাটকা আমে।

আবদুর রহমান নামে এক আড়ৎদার জানান, এখন আড়তে যেসব আম আছে, তার সবই গাছপাকা। কিন্তু দূর-দূরান্তে পাঠানোর জন্য একটু শক্ত থাকতেই গাছ থেকে নামানো হয়েছে। এবার ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার কারণে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আম। তবে উৎপাদনে কমতি নেই বলেও জানান তিনি।

বানেশ্বর হাটের আম ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, রমজানের কারণে দেশের সব জায়গায় এখন আমের ব্যাপক চাহিদা। তাই হাটে তোলার সঙ্গে সঙ্গেই আম শেষ হয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা এখানে এসে আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। রাজশাহীর অনেক মানুষও আম কিনে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে পাঠাচ্ছেন।

এদিকে হাটের একপাশে আমের জমে উঠেছে আম পাঠানো ঝুঁড়ির ব্যবসা। কেউ কেউ শুরু করেছেন খড় এবং চিকন দড়ির ব্যবসা।

মেহের আলী নামে এক ব্যবসায়ী জানান, ক্রেতার আম কেনা হলে তারা ঝুঁড়িতে ভরে সেলাইও করে দিচ্ছেন। ঝুঁড়ির দাম ধরা হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা। পরিশ্রমিকসহ নেয়া হচ্ছে ৫০ টাকা।

বানেশ্বর হাটের মতো রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান ও সাহেববাজারসহ আমের অন্যান্য বাজারগুলোও জমজমাট হয়ে উঠেছে। এবার গাছভর্তি মুকুল স্বপ্ন দেখিয়েছিল রাজশাহীর চাষিদের। ব্যাপক ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে কিছু সময় তারা হতাশও হয়ে পড়েছিলেন চাষিরা। তবে এখন আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাচ্ছে বলেই জানিয়েছেন চাষিরা। তাছাড়া আমের দামও পাওয়া যাচ্ছে ভালো। এতে আমে এবারও লাভের মুখ দেখার আশা করছেন চাষিরা।

আম ব্যবসায়ীরা জানান, গোপালভোগ এক হাজার ৯০০ টাকা, খিরসাপাত এক হাজার ৮০০, লখনা এক হাজার ৩০০, গুটি এক হাজার, হিমসাগর দুই হাজার এবং রানীভোগ এক হাজার ৭৫০ টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আর অন্য কোনো জাতের আম এখনও ওঠেনি। তাই আমের এ দাম আরও অন্তত সপ্তাহখানেক স্থায়ী থাকবে বলে জানান তারা। এমন দাম পেলে চাষিরা লাভবান হবেন বলেও ব্যবসায়ীরা জানান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী জানান, জেলায় আমের বাগান রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে। এবার আম এসেছে এক লাখ ২৬ হাজার ৪৮০ গাছে। এসব গাছ থেকে দুই লাখ মেট্রিক টনের বেশি আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল এক লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন।

এবার কৃষি বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও আমচাষিদের সমন্বয়ে আম নামানোর সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। ১৫ মে থেকে গোপালভোগ ও গুটি, ২৫ মে থেকে হিমসাগর ও লখনা জাতের আম নামানো শুরু হয়েছে। আগামি ৮ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১০ জুন থেকে ফজলি, ২০ জুন থেকে আম্রপালি এবং ১৫ জুলাই থেকে আশ্বিনা আম নামাতে পারবেন চাষিরা।

গত বছর থেকে রাজশাহীর আম বিদেশেও রপ্তানি শুরু হয়েছে। ওই বছর মাত্র ৩০ মেট্রিকটন আম রপ্তানি করা হয়েছিল। তবে এবার চীন ও ইউরোপে ১০০ মেট্রিকটন আম টার্গেট নিয়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। উন্নতমানের আম রপ্তানি করতে বেশকিছু বাগানে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
জৈষ্ঠ্য মাসের প্রথম সপ্তাহে জেলার হিমসাগর আম গেল ইউরোপে। আর এর মধ্য দিয়েই আম রপ্তানিতে কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টা তৃতীয়বারের মতো সাফল্যের মুখ দেখলো। সোমবার রাতে রপ্তানির প্রথম চালানেই জেলার দেবহাটা উপজেলার ছয়জন চাষী ও সদর উপজেলার তিনজন চাষীর বাগানের হিমসাগর আম পাঠানো হলো ...
রপ্তানি যোগ্য আম উৎপাদন করেও রপ্তানি করতে না পেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। কৃষি অধিদপ্তরের কোয়ারেন্টাইন উইংয়ের সাথে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মে করেন বাগান মালিক ও চাষিরা। অন্যদিকে জেলার ...
আমাদের দেশে উৎপাদিত মোট আমের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে নষ্ট হয়। প্রধানত বোঁটা পচা ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগের কারণে আম নষ্ট হয়। আম সংগ্রহকালীন ভাঙা বা কাটা বোঁটা থেকে কষ বেরিয়ে ফলত্বকে দৃষ্টিকটু দাগ পড়ে । ফলত্বকে নানা রকম রোগজীবাণুও লেগে থাকতে পারে এবং লেগে থাকা কষ ...
আমে ফরমালিন আর কার্বাইডের ব্যবহার নিয়ে দেশে যখন ব্যাপক হইচই হচ্ছে, এর নেতিবাচক প্রচারের অনেক ভোক্তা সুস্বাদু এই মৌসুমি ফল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরাও মাঠে নেমেছেন কম। আমের বাজারে চলছে ব্যাপক মন্দা। এই সময়ে শাহ কৃষি জাদুঘর এবার ফরমালিন-কার্বাইড তো দূরের কথা, কোনো ...
বলার অপেক্ষা রাখেনা দর্শক নন্দিত ও জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি। প্রতি পর্বে চমক নিয়ে দর্শকের সামনে আসে অনুষ্ঠানটি। স্টুডিওর বাইরে এসে দেশের ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থানে ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপনা সর্বদাই প্রশংসিত। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ২৯ এপ্রিল প্রচারিতব্য পর্বটি ধারণ করা ...
আম গাছ কে দেশের জাতীয় গাছ হিসেবে ঘোষনা দাওয়া হয়েছে। আর এরই প্রতিবাদে কিছুদিন আগে এক সম্মেলন হয়ে গেলো যেখানে বলা হয়েছে :-"৮৫% মমিন মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। ঈমান আকিদায় দুইন্নার কুন দেশেরথে পিছায় আছি?? আপনেরাই বলেন। অথচ জালিম সরকার ভারতের লগে ষড়যন্ত কইরা আমাগো ঈমানের লুঙ্গি ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২