Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

টবে আম গাছ : বাড়বে সবুজ, মিটবে পরিবারের চাহিদা

শখের বাগান করার জন্য এ খণ্ড জমি অনেকর ভাগ্যেই ধরা দেয় না। আর আমাদের এই শহরে জীবনে বড় বড় অট্টালিকার কারণে দিনে দিনে কমছে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ। তাই বলে কি বাগান করা শখটি পূরণ হবে না আপনার? না আপনি চাইলে আপনার বাড়ি আঙ্গিনা কিংবা ছাদেই গড়ে তুলতে পারেন শখের বাগান। এমনকি সেই বাগানে আপনি একটি বা দু'টি আমের গাছও লাগাতে পারেন। নিজ হাতে লাগানো সেই আম গাছ থেকেই অনেকাংশেই মিটবে আপনার পরিবারের আমের চাহিদা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রে ২০০৬ সালে টবে লাগানো আম গাছে গত কয়েক বছর থেকে নিয়মিত ফুল ও ফল আসছে। টবে জন্মানো গাছের ফলন বাগানে জন্মানো গাছের ফলনের চেয়ে কিছুটা কম হলেও এটাকে সন্তোসনক মনে করে টবে আমের গাছ লাগানোর বিষয়ে আশাবাদী হয়েছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, এতে করে ইটকাঠের বাড়িতে একখণ্ড সবুজের সৃষ্টি হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকতা ড. শরফ উদ্দিন জানান, কেউ চাইলে খুব সহজে তার বাড়ির ছাদে বা অন্য কোনো একটি স্থানে টবে বারি আম-৩ আমের জাতটি লাগাতে পারেন। লাগানোর পরের বছর থেকেই আম ধরা শুরু করবে গাছটিতে।
আর টবে লাগানো আম গাছ থেকে অন্তত ১০-১২ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া সম্ভব বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, যদি কেউ ৩/৪টি আমের জাত পছন্দ করেন কিন্তু তার মাত্র একটি টব রাখার মতো জায়গা আছে তাহলে দ্বিতীয় বছরে প্রত্যেকটি ডালে কাঙ্ক্ষিত জাতের সায়ন দ্বারা টপ ওর্য়াকিং করতে হবে। এই পদ্ধতিতে একটি গাছে অনেকগুলো জাতের সমাবেশ ঘটানো যায়।
টবে আম গাছের চারা লাগানোর ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখারা কথা জানিয়েছেন এই ফল গবেষক। তিনি জানান, টবে অনায়াসেই পেয়ারা, লেবু, কামরাঙ্গা, জামরুল, ডালিম, বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষাবাদ করা যায়। তবে সাধারণ আম গাছের বাগান খুব কম জনই করেন, অনেকের ধারনা থাকে যে টবে আম গাছ হবে কি করে। কিন্তু বর্তমানে আমের মধ্যে বারি আম-৩ বা আম্রপালি জাতটি লাগাচ্ছেন। গষেণায় দেখা গেছে, কনক্রিটের তৈরী টবে আম ১০-১২ বছর এবং অন্যান্য ফল ১৫-২০ বছর পর্যন্ত সফলভাবে জন্মানো সম্ভব।  বাড়ির ছাদে যারা ফল বাগান বা সবজি বাগান করে থাকেন তাদের একটি বিষয়ের উপর এ সময়ে বিশেষ নজর দিতে হবে তা হলো নিয়মিত পানির ব্যবস্থা করা। তবে বাড়ির ছাদে স্থাপনের জন্য টবের ওজনের বিষয়টি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

টব তৈরী ও চাষ পদ্ধতি :
বিশেষ ধরণের এই টবটি তৈরীর জন্য খুয়া (ইটের টুকরা), সিমেন্ট, বালি ও চিকন রডের প্রয়োজন হয়। টবের আকার ৩২/৩২/৩০ ইঞ্চি (দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা) এবং টবের ভেতরের আকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ২৫ ইঞ্চি। টবের উপরের প্রান্তে ৪ ইঞ্চি পাড় বা কিনারা করলে দেখতে সুন্দর হয়। টবটি ভালোভাবে স্থানান্তরের জন্য চার প্রান্তে ৪টি হুক রাখতে হবে। টবটির নিচের প্রান্তে ৩টি পানি নিষ্কাসনের জন্য ছিদ্র রাখতে হবে। টবটি ভরাট করার সময় নিচের অংশে ছোট ইটের টুকরা ব্যবহার করতে হবে। এরপর ৫০ ভাগ দোঁআশ মাটি এবং ৫০ ভাগ পচানো গোবর সার অথবা জৈব সার ব্যবহার করতে হবে।
এরপর পছন্দনীয় আমের জাতের কলম সংগ্রহ করে লাগাতে হবে। তবে গুটি আমের গাছ লাগিয়ে সেটিকে পছন্দের সায়ন (ডগা) দিয়ে কলম করা যায়। টবে জন্মানোর জন্য নিচের দিকে বা মাটির কাছাকাছি গ্রাফটিং করা চারাগুলি নির্বাচন করতে হবে। মাটির উপর থেকে ৫-৮ ইঞ্চি দুরুত্বে কলম করলে সবচেয়ে ভালো হবে। প্রাথমিক অবস্থায় সব টবগুলো পাশাপাশি রাখলেই চলবে। এক-দুই বছর পর নির্দিষ্ট জায়গায় স্থানান্তর করতে হবে। প্রতি বছর গাছের চাহিদা অনুযায়ী সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। যেমন গোবর সার বা জৈব সার বা কেঁচো সার, ডিএপি, এমপি, জিপসাম, দস্তা সার এবং বোরিক পাউডার।
সবগুলো সার একবারে প্রয়োগ না করে দুই থেকে তিন বারে প্রয়োগ করা ভালো। সার প্রয়োগের পর পানির ব্যবস্থা করতে হবে। যখন বৃষ্টিপাত কম হয় এবং মাটি শুষ্ক অবস্থায় থাকে তখন প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সরবরাহ করতে হবে। গাছ লাগানোর প্রথম দুই বছর গাছে শক্ত খুঁটির ব্যবস্থা করতে হবে।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
মাটি ও আবহাওয়ার কারণে মেহেরপুরের সুস্বাদু হিমসাগর আম এবারও দেশের বাইরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) ভুক্ত দেশগুলোতে রফতানি হতে যাচ্ছে।   গত বছর কীটনাশক মুক্ত আম প্রথম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার ফলে এ অঞ্চলের আমচাষীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দেয়। গত বছর ১২ মেট্রিক টন আম ইউরোপিয়ান ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সারাদেশের ন্যায় মত চাঁপাইনবাবগঞ্জেও টানা ৭দিন ধরে প্রবল বর্ষনের কারণে আম ব্যবসায়ী ও আম চাষীদের মাথায় হাত পড়েছে। টানা বর্ষনের কারনে আম ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে আম পাড়তে পারছেন না। অন্যদিকে গাছে পাকা আম নিয়েও বিপাকে পড়েছে আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। ফলে দুর্যোগপূর্ণ ...
আমাদের দেশে উৎপাদিত মোট আমের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে নষ্ট হয়। প্রধানত বোঁটা পচা ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগের কারণে আম নষ্ট হয়। আম সংগ্রহকালীন ভাঙা বা কাটা বোঁটা থেকে কষ বেরিয়ে ফলত্বকে দৃষ্টিকটু দাগ পড়ে । ফলত্বকে নানা রকম রোগজীবাণুও লেগে থাকতে পারে এবং লেগে থাকা কষ ...
আমে ফরমালিন আর কার্বাইডের ব্যবহার নিয়ে দেশে যখন ব্যাপক হইচই হচ্ছে, এর নেতিবাচক প্রচারের অনেক ভোক্তা সুস্বাদু এই মৌসুমি ফল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরাও মাঠে নেমেছেন কম। আমের বাজারে চলছে ব্যাপক মন্দা। এই সময়ে শাহ কৃষি জাদুঘর এবার ফরমালিন-কার্বাইড তো দূরের কথা, কোনো ...
মৌসুমি ফল দিয়ে কর্তা ব্যক্তিদের খুশি করে স্বার্থ উদ্ধারের পদ্ধতি অনেক দিনের। বর্তমানে এই খুশি বিষয়টি আদায় করতে নগদ অর্থ খরচ করতে হলেও ফল থেরাপি ধরে রেখেছে অনেকেই। এর একটি হল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য নিয়মিত ...
আম গাছ কে দেশের জাতীয় গাছ হিসেবে ঘোষনা দাওয়া হয়েছে। আর এরই প্রতিবাদে কিছুদিন আগে এক সম্মেলন হয়ে গেলো যেখানে বলা হয়েছে :-"৮৫% মমিন মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। ঈমান আকিদায় দুইন্নার কুন দেশেরথে পিছায় আছি?? আপনেরাই বলেন। অথচ জালিম সরকার ভারতের লগে ষড়যন্ত কইরা আমাগো ঈমানের লুঙ্গি ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২