Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

পুঠিয়ার-বানেশ্বরে জমে উঠেছে আমের বাজার

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার মধু মাস জৈষ্ঠ্যের শুরু থেকে বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে আমের বাজার। ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশ্বে কয়েকটি স্থানে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী (মৌসুম ভিক্তিক) আম আড়ৎ। প্রতিদিনেই আড়ৎ গুলোতে আসছে বাহারী বাহারী বিভিন্ন জাতের আম। গোপালভোগ, লখনা, ক্ষীরসাপাত, হিমসাগরসহ বিভিন্ন প্রজাতি আমের মিষ্টি ঘ্রাণ ভেসে আসছে আড়ৎ গুলো থেকে। ল্যাংড়া, ফজলি ও আশ্বনি আম ছাড়া বাকি স্থানীয় জাতের (আটির) আম গুলোর কেনা-বেচা ধুম পড়েছে এই অঞ্চলে।

পাখি ডাকা ভোর থেকে মধ্যেরাত পর্যন্ত চলে আম বেচা-কেনা। এর মধ্যে রাজশাহী জেলার সর্ববৃহৎ আমের বাজার হিসাবে পুঠিয়ার বানেশ্বর হাটের সুনাম ছড়িয়ে পরেছে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। যার ফলে আড়ৎ গুলোতে আগমন ঘটছে বিভিন্ন জেলার আম ব্যবসায়ীদের। প্রতিদিন এই উপজেলায় কোটি কোটি টাকার আম কেনা-বেচা হচ্ছে।
বানেশ্বর হাটের ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে প্রায় আর্ধা কিলোমিটার জুড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী আমের বাজার। বিশাল এই হাটে প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যে রাত পর্যন্ত চলছে আমের কেনা-বেচার ধুম। ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে বানেশ্বর হাট এখন বিগত বছর গুলোর চেয়ে বেশি সরগরম।

এছাড়া বেলপুকুর, শাহবাজপুর, বিড়ালদহ, শিবপুরহাটসহ বিভিন্ন গ্রাম গুলোতেও সমাগম ঘটেছে অস্থায়ী আমের বাজার। আমের জাত ভেদে দেড় থেকে দু’হাজার টাকা পর্যন্ত (৪৫ কেজি, ১ মণ) দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আম্রপালি ও দুধস্বর ছাড়াও প্রভৃতি মাঝারি স্বাদের আমের দামও এক থেকে দেড় হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাগমারা, বাঘা, চারঘাট, নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বেশীর ভাগ আম বিক্রেতাগন আম বিক্রি করতে আসেন বানেশ্বর হাটে।
চারঘাট এলাকার বাগান মালিক সিরাজুল ইসলাম, দবির উদ্দীনসহ অনেকেই জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আম ব্যবসায়ীরা বানেশ্বর আড়ৎ গুলো থেকে আম ক্রয় করেন। যার ফলে এখানে অল্প খরচে ভালো দামে আম বিক্রি করা যায়।

আড়ৎদার আবুল কালাম ও সেলিম জানান, কোনো প্রকার দালাল ছাড়াই বানেশ্বর আম আড়ৎদারগন সঠিক মূল্যে বাগান মালিকদের নিকট থেকে সরাসরি আম ক্রয় করে থাকে। এতে আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা কেনা-বেচায় প্রতারনা থেকে রক্ষা পাচ্ছেন।
খুলনার থেকে আসা আম ব্যবসায়ী জমশেদ আলী, ঢাকার মোতালেব হোসেনসহ বেশীর ভাগ ব্যবসায়ীরা জানান, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজশাহী অঞ্চলের আমের কদর অনেক বেশি। আর রাজশাহীর যেকোনো হাট ও আড়তের তুলনায় বানেশ্বর, শাহবাজপুর এলাকার আম ক্রয় করলে যাতায়াত খরচ অনেক কম লাগে। এতে আমাদের লাভের অংকটা একটু বেশী হয়।
বানেশ্বর বণিক সমিতির সভাপতি আজিজুল বারী মুক্তা জানান, প্রতিদিন এই আম হাট থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন আম ক্রয়-বিক্রয় করছেন। এ ছাড়া ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন অর্ধ-শতাধিক আম বোঝাই ট্রাক দেশের বিভিন্নস্থানে নিয়ে যাচ্ছেন।

এই হাটে আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা প্রহরী দিয়ে বহিরাগত ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহয়তা করা হয়। তিনি আরো জানান, কেবলমাত্র বানেশ্বর বাজার থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার আম কেনা-বেচা হয়।

Comment (0) Hits: 1022
 

আমের রাজ্য বানেশ্বর

আমের রাজধানীখ্যাত রাজশাহীতে জমে উঠেছে আমের বাজার। রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের হাট বানেশ্বরে এখন প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে। দেশের গ-ি পেরিয়ে রাজশাহীর আম যাচ্ছে ইউরোপেও। এ বছর আমের দাম স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। স্থানীয় আম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহীতে প্রায় ১৫০ প্রজাতির আম উৎপাদিত হয়। আমের রাজ্য বানেশ্বরের হাটে লখনা, ক্ষীরশা, গোপালভোগ, গুটি জাতের আম এসেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের মোকাম বানেশ্বর বাজার। এ হাটে প্রায় ১৫০টি আমের আড়ত আছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে আমের বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এখানে আসেন আম কিনতে। আর প্রতিদিন রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আম বিক্রি করতে বানেশ্বর হাটে আসেন বিক্রেতারা। বর্তমানে বাজারে লখনা আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়, ক্ষীরশা ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকায়, গোপালভোগ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়, গুটি আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। ব্যবসায়ীরা জানান, এবার রাজশাহীতে দুই দফা বড় ঝরে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা আশা করছিলেন আমের দাম চড়া হবে। কিন্তু দাম স্বাভাবিক থাকায় কিছুটা হতাশ ব্যবসায়ীরা। বানেশ্বর হাটের আম ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, এখান থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক আম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। বড় ব্যবসায়ীরা ও কোম্পানি এসে এখান থেকে আম কেনেন। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি টাকার আম বেচাকেনা হয় এ হাটে। আম বিক্রেতা হামিদুর রহমান বলেন, আমের বাজার শুরুতে চড়া ছিল। রোজার শুরু থেকে আমের আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কম। বানেশ্বর হাটের আম ব্যবসায়ী মুঞ্জুর রহমান বলেন, গেলবার তারা ২ টন আম সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন। সেখান থেকে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। এবার ১৫ টন আম বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এজন্য ৫০ হাজার ক্ষীরশাপাত, লক্ষণভোগ, ল্যাংড়া ও ফজলি আম ব্যাগিং পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালী আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, জেলায় প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এবার আম এসেছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৮০ গাছে। এসব গাছ থেকে ২ লাখ মেট্রিক টনের বেশি আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গেল বছর উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন। এবার কৃষি বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও আমচাষির সমন্বয়ে আম নামানোর সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। ১৫ মে থেকে গোপালভোগ ও গুটি, ২৫ মে থেকে হিমসাগর ও লখনা জাতের আম নামানো শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, ৮ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১০ জুন থেকে ফজলি, ২০ জুন থেকে আম্রপালি এবং ১৫ জুলাই থেকে আশ্বিনা আম নামাতে পারবেন চাষি। গেল বছর থেকে রাজশাহীর আম বিদেশেও রফতানি শুরু হয়েছে। ওই বছর মাত্র ৩০ মেট্রিক টন আম রফতানি করা হয়। তবে এবার চীন ও ইউরোপে ১০০ মেট্রিক টন আম রফতানির টার্গেট নিয়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। উন্নতমানের আম রফতানি করতে বেশকিছু বাগানে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি।

Comment (0) Hits: 1073
 

জমে উঠছে আমের বাজার

বার উত্তরাঞ্চলের আবহাওয়া আম উৎপাদনের খুব একটা অনুকূল না থাকলেও আমের বাজারে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। দিন যত যাচ্ছে জমে উঠছে রাজশাহীর আমের বাজার। অপেক্ষার প্রহর শেষ করে রকমারি স্বাদের আম কোটি কোটি মানুষের রসনা মেটাতে প্রস্তুত। রাজশাহীতে কেমিক্যালমুক্ত আমের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কেউ যেন অপরিপক্ক আম না পাড়ে সেদিকে বিশেষ নজর রেখেছিল জেলা প্রশাসন। গত ২৫শে মে সে বিধি আরোপ উঠে যেতেই আম চাষি/ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এর আগেই গোপালভোগ জাতের আম পেকে যাওয়ায় কিছু কিছু করে বাজারে উঠতে শুরু করে। আমচাষিরা বলছেন, অন্তত ৪/৫দিন আগেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হতো। এখন দ্রুত বাজারজাত করতে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এবার আমের উৎপাদন কম হওয়ায় দাম চড়া থাকছে। তবে এরপরও রাজশাহী থেকেই প্রায় ৪০ টন আম বিদেশে রপ্তানি করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজশাহী কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালী মানবজমিনকে জানান, ‘গত বছর থেকে রাজশাহী আম বিদেশে রপ্তানি শুরু হয়েছে। বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাগিং পদ্ধতিতে রপ্তানি উপযোগী করা হচ্ছে। এবার রাজশাহীতে প্রায় এক লাখ আম ব্যাগিং করা হয়েছে। রাজশাহী  থেকে প্রায় ৪০ টন আম সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি হবে। গেল বছর বাংলাদেশ থেকে ৮২৫ টন আম বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। এবার তার দ্বিগুণ হবে।’ এদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে ২৫শে মে থেকে শুরু হয়েছে গোপালভোগ ও গুটি জাতের আমের বাজারজাত। তবে ক্ষিরসাপাত ও লক্ষণভোগ ১ জুন, ল্যাংড়া ও বোম্বাই ১০ জুন, ফজলি ২৫ জুন, আম্রপালি ১ জুলাই এবং আশ্বিনা ১৫ই জুলাই থেকে পাড়তে ও বাজারজাত করতে পারবেন চাষিরা। পরবর্তীতে নাবি জাতের ফজলিসহ অন্যান্য আম বাজারে আসবে। সূত্রমতে, রাজশাহীতে ১৬ হাজার ৫১৯ হেক্টর জমিতে রয়েছে আমের বাগান। রাজশাহীতে এবার প্রায় ২২ লাখ আম গাছ থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৮৯ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় কড়া রৌদ্রে অনেক গাছের মুকুল পুড়ে জ্বলে যায়। এরপর কয়েক দফা ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে আমের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আবদুল আলিম মানবজমিনকে জানান, ‘আবহাওয়া বৈরি থাকায় আমের ফলন অনেকটা কমেছে সত্য। কিন্তু এরপরও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে। একটু প্রকৃতির সাপোর্ট পেলে এবার রাজশাহীতে বাম্পার ফলন হতো।’ রাজশাহীর বড় আমের হাট বানেশ্বর বাজারে আম ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, গত মৌসুমে তিনি ২ টন আম সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন। তারা ভালো সাড়া দিয়েছেন। এবার ১৫ টন আম বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এজন্য ৫০ হাজার ক্ষিরসাপাত, লক্ষণভোগ, ল্যাংড়া ও ফজলি আম ব্যগিং পদ্ধতিতে তৈরি করেছেন। তিনি আরো বলেন, প্রশাসনের নজরদারির কারণে গত দুই বছর থেকে ফরমালিনমুক্ত সুস্বাদু আম খেতে পাচ্ছেন দেশের মানুষ। বানেশ্বর থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক আম রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শহরে যাওয়া শুরু হয়েছে। বাঘা উপজেলার আম চাষি জসীমউদ্দিন জানান, প্রচণ্ড গরমের পরপরই বৃষ্টি হওয়ায় আগেভাগে  পেকেছে গোপালভোগ আর গুটি জাতের আম। কিন্তু প্রশাসনের বাধা-নিষেধ থাকায় কোনো কিছু করার উপায় ছিলো না তাদের। এ প্রসঙ্গে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন মানবজমিনকে বলেন, ‘কেমিক্যালমুক্ত আমের বাজারজাত নিশ্চিতে আমরা খুবই সচেতন। চাঁপাই নবাবগঞ্জে আম পাড়ার ক্ষেত্রে সময় বেঁধে  দেয়া হলেও রাজশাহীতে তা করা হয়নি। তবে অপরিপক্ক আম গাছ থেকে নামিয়ে কার্বাইড দিয়ে পাকিয়ে বাজারজাতকরণ ঠেকাতে প্রতিটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছিল। তারা সেই বিষয়গুলো দেখেছেন। পুরো মৌসুম জুড়ে মনিটরিং থাকবে।’ সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজশাহীর বাজারে নামতে শুরু করেছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠের সুস্বাদু রসালো আম। প্রথমেই নেমেছে গোপালভোগ ও গুটি জাতের আম। সারি সারি বাগান থেকে ভাঙা হচ্ছে আম। তারপর বাগান থেকে ডালিতে করে বাজারে নিয়ে আসা হচ্ছে। আমের রাজধানী রাজশাহীতে সর্বত্র এখন আমের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মিষ্টি মধুর রসালো আম বাগান থেকে নেমে ঠেকছে সড়কের কিনারায়। নগরীর আশপাশের বাজারগুলোতে শোভা পাচ্ছে পাকা আমের ডালি। সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, রেলস্টেশন, রেলগেট, শালবাগান, হড়গ্রাম বাজার, উপ-শহর, তেরখাদিয়া, নওদাপাড়া, বিনোদপুর ও পার্শ্ববর্তী, বায়া, নওহাটা, কাশিয়াডাঙ্গা, বিন্দুমোড়সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে আমের পর্যাপ্ত সরবারহ থাকলেও দাম একটু চড়া। গুটিজাতের আম হাজার থেকে ১৪শ’, গোপালভোগ ২৩শ’ থেকে ২৫শ’ এবং ক্ষিরসাপাত ১৬শ’ থেকে ১৯শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আগেভাগে পেকে যাওয়ায় বাজারে আসতে শুরু করেছে লক্ষণা জাতের কিছু আম। বর্তমানে লক্ষণভোগ/লক্ষণা ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

Comment (0) Hits: 1005

আমের দাম দ্বিগুণ

হিমসাগর, গোপালভোগ, লখনার মতো উন্নতজাতের আমগুলো বেশ কিছু দিন আগেই বাজার থেকে বিদায় নিয়েছে। এখন বাজারে বেশি পরিমাণে আছে ফজলি ও আশ্বিনা। স্বল্প পরিমাণে আছে আম্রপালি ও ল্যাংড়া। আম শেষ হয়ে আসায় ছোট হয়ে এসেছে আমের বাজার। ফলে এই মুহূর্তে আমের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ থেকে আমের দাম বাড়তির দিকে। গতকাল শনিবারও মণে ১০০ টাকা বেশিতে আম বিক্রি হয়েছে। বাগানে আম প্রায় শেষ হতে আসায় দাম এখন উঠতির দিকে। বেশি দাম না দিলে বাগান মালিকরা আমই দিতে চাচ্ছেন না। ফলে কিনতে হচ্ছে বেশি দামে, বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশিতে। এতে আমচাষিরা লাভবান হচ্ছেন বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে পুঠিয়ার বানেশ্বরে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি মণ ফজলি বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৪০০ টাকা দরে। প্রতি মণ লাড়ুয়া ভোগ বিক্রি হচ্ছে ছয় হাজার টাকায়। এছাড়া আশ্বিনা বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ তিন হাজার টাকায়। এছাড়া খুবই সামান্য পরিমাণে থাকা ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকায়।

রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার, শালবাগান ও শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকার আমের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মৌসুম প্রায় শেষ হয়ে আসায় কমেছে আমের দোকানের সংখ্যা। ফলে বেড়েছে দাম। এই তিন বাজারে আম্রপালি, মহারাজ ফজলি, সুরমা ফজলি ও আশ্বিনা আম বিক্রি হতে দেখা যায়।

শিরোইলের রাজন ফল ভাণ্ডারের বিক্রয়কর্মী রবিউল ইসলাম জানান, নানা জাতের ফজলি এখানে দুই হাজার ৪০০ থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। চোষা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ টাকায়। খুব কম পরিমাণে থাকায় ল্যাংড়া ও আম্রপালির দাম আরও চড়া। এগুলো ছয় থেকে সাত হাজার টাকা মণ দরেও বিক্রি হচ্ছে।

বাদশা আমের আড়তের মালিক বাদশা শেখ বলেন, আম কমতে কমতে এখন ফজলি এবং আশ্বিনার মধ্যে সীমাবদ্ধ হতে শুরু করেছে। ফজলি বাজারে এসেছে প্রায় এক মাস আগেই। তবে আশ্বিনা আসছে গত সপ্তাহ থেকে। ফজলি বাজারে মিলবে আরও প্রায় ১৫ দিন। আর আশ্বিনা পাওয়া যাবে আরও প্রায় মাসখানেক। বাজারে আমের সরবরাহ কমার কারণে দাম বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

শালবাগান বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন ধরে রাজশাহীতে বৃষ্টি লেগেই আছে। এই বৃষ্টির কারণেও আমচাষি এবং ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে ঠিকমতো আম পাড়তে পারছেন না। এতে বাজারে আমের সরবরাহ কমেছে। ফলে দামও বেড়েছে কিছুটা। এরপরেও আম বিক্রি কমেনি। শেষ মুহূর্তে চাহিদাও বেড়েছে মৌসুমি এ ফলের।

সাহেববাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, এবার আমের মৌসুম শুরু হয়েছিল রোজার ভেতর। তাই দাম ছিল কম। চাষি, ব্যবসায়ীরাও এতে খুব একটা লাভবান হননি। রোজার পর থেকেই আমের দাম বাড়তে থাকে। এখন আম শেষ হতে থাকায় দাম বাড়তেই থাকবে। বাড়তি এ দাম কমার সম্ভাবনাও কম। কারণ, মৌসুমের শুরুর দিকে যেসব চাষিরা আম বিক্রি করে খুব বেশি লাভবান হতে পারেননি, তারা এখন চড়া দাম ছাড়া আম বিক্রি করছেন না।

প্রসঙ্গত, রাজশাহীর প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এবার আম এসেছিল এক লাখ ২৬ হাজার ৪৮০ গাছে। জেলায় এবার দুই লাখ মেট্রিক টনের বেশি আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে মৌসুমের শুরুতেই ৯০ থেকে ৯৫ কিলোমিটার গতিবেগের এক কালবৈশাখীতে ঝরে পড়ে প্রচুর আম। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন চাষিরা। আমের দাম সাধ্যমতো বাড়িয়ে সে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন কোনো কোনো চাষি।

Comment (0) Hits: 1048
এক আমের দাম ৩৩ হাজার টাকা! কে কিনেছে এই আম এবং ঘটনাটা কী?- ভাবা যায়! একটি আমের দাম ৩৩ হাজার টাকা। তাও আবার আমের রাজধানী-খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে। ঘটনাটা কী! শিবগঞ্জ উপজেলার দুলর্ভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাজিবুল ইসলাম রাজু জানান, শনিবার সকালে দুলর্ভপুর ইউনিয়নের ...
আম ও আমজাত পণ্য রপ্তানী বিয়য়ে সেমিনার হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় রপ্তানীর প্রশিক্ষন কর্মসুচীর আওতায় শনিবার সকালে দিনব্যাপী সেমিনারের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ জাহিদুল ইসলাম। আলোচনার মাধ্যমে আম রপ্তানী ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের ...
আমের মৌসুম বাড়ছে আরও এক মাস  কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করে আম পাকা প্রায় এক মাস বিলম্বিত করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন এক উদ্ভিদবিজ্ঞানী আম পাকা শুরু হলে আর ধরে রাখা যায় না। তখন বাজারে আমের সরবরাহ বেড়ে যায়। যেকোনো দামেই বেচে দিতে হয়। তাতে কোনো কোনো বছর চাষির উৎপাদন ...
সারা দেশে যখন ‘ফরমালিন’ বিষযুক্ত আমসহ সব ধরনের ফল নিয়ে মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে, তখন বরগুনা জেলার অনেক সচেতন মানুষ বিষমুক্ত ফল খাওয়ার আশায় ভিড় জমাচ্ছেন মজিদ বিশ্বাসের আমের বাগানে। জেলার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নে শাখারিয়া-গোলবুনিয়া গ্রামে মজিদ বিশ্বাসের ২ একরের ...
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন বয়সী অনেক পুরনো গাছ। এর কোন কোনটি ২০০-৩০০ বছরেরও বেশি বয়সী। আবার কোনটির বয়স তার চেয়েও বেশি। তেমনই ঠাকুরগাঁওয়ের একটি আমগাছের কথা সেদিন জানতে পারলাম ফেসবুকে একজনের পোষ্ট থেকে। একটি আমগাছ যার বয়স নাকি ২০০ বছরেরও ...
রীষ্মের এই দিনে অনেকেরই পছন্দ আম।এই আমের আছে আবার বিভিন্ন ধরণের নাম।কত রকমের যে আম আছে এই যেমনঃ ল্যাংড়া,ফজলি,গুটি আম,হিমসাগর,গোপালভোগ,মোহনভোগ,ক্ষীরশাপাত, কাঁচামিঠা কালীভোগ আরও কত কি! কিন্তু এবারে বাজারে এসেছে এক নতুন নামের আর তার নাম 'বঙ্গবন্ধু'। নতুন নামের এই ফলটি দেখা ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২