Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

বিশেষ উপায়ে পাকানো কাঁচা আমে বাজার সয়লাব

দাম বেশি পেতে মৌসুম শুরুর আগেই ব্যবসায়ীরা বিক্রি শুরু করেছে রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো পাকা আম। রঙ দেখে পাকা মনে হলেও বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে কাঁচা আম পাকিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেদার বিক্রি হচ্ছে এসব আম। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো এসব আম খেয়ে মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। তারা বলছেন, শুধু আইন করে এটা বন্ধ করা যাবে না। এজন্য ক্রেতা ও বিক্রেতাকে সচেতন হতে হবে। ব্যবসায়ীদের হতে হবে সৎ ও বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। তা না হলে এ অবস্থার উন্নতি হবে না। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মৌসুম শুরুর আগে আম বাজারে উঠলে দাম বেশি পাওয়া যায়। এ কারণে বেশি মুনাফার আশায় তারা এ কাজ করেন। হিমসাগর, গোপালভোগ, গুটিআম, লক্ষণভোগসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা কাঁচা আমে রাসায়নিক দ্রব্য
মেশালে পাকা আমের মতো রঙ ধরে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ওয়াইজ ঘাট, বাদামতলী,
মিরপুর, কারওয়ান বাজার ছেয়ে গেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দেশি আমে। সাতক্ষীরা, জয়পুরহাট, চুয়াডাঙ্গা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে আসছে নানা জাতের আম। কিন্তু পাকা আমের মৌসুম শুরুর আগেই পাকা আমে ছেয়ে গেছে বাজার। ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুম শুরুর আগে আমের চাহিদা বেশি থাকে। সরবরাহ কম থাকে। ফলে দাম বেশি পাওয়া যায়। এজন্য কাঁচা আম নানাভাবে পাকিয়ে বিক্রি করা হয়।
বিএসটিআই সূত্র জানায়, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আম রাজধানীতে আমদানি করার সময় ঝুড়িতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড, সোডিয়াম কার্বাইড মেশানো হয়। পরে পচন থেকে রক্ষা পেতে ফরমালিন মেশানো হয়। আম রাজধানীতে নিয়ে আসার পথে কাগজে ক্যালসিয়াম কার্বাইড মুড়িয়ে আমের ঝুড়ির বিভিন্ন স্থানে রেখে ঝুড়িটা চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। রাস্তায় ১০-১২ ঘণ্টায় ক্যালসিয়াম কার্বাইড বাতাসের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে বাষ্প হয়ে মিলিয়ে যায়। আর আমের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে পাকা রঙ ধরে। এছাড়া পুরনো কাপড়ে এসব রাসায়নিক দ্রব্য আমের ঝুড়িতে রেখে দিলে প্রচণ্ড তাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে কাঁচা আম একরাতেই পাকা রঙ ধরে যায় কিন্তু আমের ভেতরটা কাঁচা থাকে। আমের উপরিভাগ দেখে পাকা মনে হলেও তা আসলে কাঁচা আম। ভেতরটা থাকে শক্ত।
কারওয়ান বাজারের আম ব্যবসায়ী শাহীন মিয়া জানান, পাকা আম রাজধানীতে আসতে পথেই পেকে পচে যায়। এজন্য আধাপাকা অথবা কাঁচা আম এনে তা বিভিন্ন উপায়ে পাকিয়ে বাজারজাত করা হয়।
সম্প্রতি রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো আম শনাক্ত করতে বিএসটিআই দুটি অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ৬০ মণের বেশি আম জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। কিন্তু এর পরও রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হামিদুল কবীর সমকালকে জানান, কাঁচা ফলে জীবননাশক রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের কারণে ফলের গায়ে খুব দ্রুত পাকা রঙ ধরে। দেখতে পাকা মনে হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা খুব দ্রুত এগুলো বাজারজাত করতে পারে। রঙ দেখে ক্রেতাও আকৃষ্ট হয়। তিনি জানান, আম পাকানো হচ্ছে কার্বাইড দিয়ে। আর পটাসিয়াম পার কার্বনেট দিয়ে পাকানো হচ্ছে তরমুজ। ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে পাকানো হচ্ছে কলা। এর ফলে উপরে পাকা মনে হলেও ভেতরে পাকা থাকছে না। এর ফলে দীর্ঘ সময় বিক্রি না হলেও তা পচে যাচ্ছে না। এছাড়া সিরিঞ্জ দিয়ে তরমুজের ভেতরে পটাসিয়াম পার ম্যাঙ্গানেট গুলিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে তরমুজের ভেতরটা টকটকে লাল দেখায়। কাঁচা অবস্থায় এসব দ্রব্য মেশানোর কারণে ফল পাকলে পরে খেতে তেতো লাগে। তিনি বলেন, এসব রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের কারণে ফলের পুষ্টিগুণ তো নষ্ট হচ্ছেই; সেই সঙ্গে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে স্বাদও। এসব ফল খেয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে। রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো খাবার খাওয়ার ফলে লিভার নষ্ট হওয়া, কিডনি নষ্ট ও পাকস্থলীতে রাসায়নিক দ্রব্য জমে হজমে সমস্যা নানা রোগ দেখা দিতে পারে।
ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল-আমীন জানান, এ ধরনের অপকর্ম বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীকে যোগ্য শাস্তিও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারপরও এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা ঘটছে। এসব বন্ধে ব্যবসায়ীদের সৎ এবং তাদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ হতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ করে এ ধরনের অপকর্ম বন্ধ করা যাবে না। এজন্য ক্রেতা এবং বিক্রেতা সবাইকেই সচেতন হতে হবে। বিক্রেতারা নিজের ব্যবসায়িক লাভের জন্য জনগণের জীবন নিয়ে খেলতে পারে না।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
মালদার আমের কদর দেশজোড়া। কিন্তু বিশ্ববাজারে? সেদিকে নজর রেখেই এবার দিল্লির আম উত্সবে যাচ্ছে মালদা আর মুর্শিদাবাদের বাছাই করা আম। শনিবারই দিল্লি পাড়ি দিচ্ছে চব্বিশ মেট্রিক টন আম।  হিমসাগর, গোলাপখাস থেকে ফজলি। মালদার আমের সুখ্যাতি গোটা দেশে। যেমন স্বাদ, তেমনি গন্ধ। ...
ফলের রাজা আম। আর আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। দেশের সর্ববৃহত্তর অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যলয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। এ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম। বর্তমানে জেলা সবখানে চলছে বাগান পরিচর্যা ও বেচা-কেনা। বর্তমানে জেলার ২৪ হাজার ৪৭০ হেক্টর আম বাগানে ৯০ ভাগ মুকুল এসেছে। ...
ঝিনাইদহে দিন দিন বাড়ছে আম চাষের আবাদ। স্বাস্থ্য ঝুঁকিবিহীন জৈব আর ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করছে এই এলাকার আমচাষিরা। এ বছর ফলন ভালো হওয়ার আশায় খুশি তারা। জেলা থেকে বিদেশে রপ্তানী আর আম সংরক্ষণের দাবি চাষিদের। জানা যায়, ২০১১ সালে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় আমের আবাদি জমির ...
রাজধানীর মালিবাগের আবদুস সালাম। বয়স ৭২ বছর। তার চার তলার বাড়িতে রয়েছে একটি দুর্লভ ‘ছাদবাগান’। শখের বসে এ বাগান করেছেন। বছরের সব ঋতুতেই পাওয়া যায় নানা ধরনের ফল। এখনো পাকা আম ঝুলে আছে ওই ছাদবাগানে। শুধু আম নয়, ৫ কাঠা ওই বাগানজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুল, ফলসহ অন্তত ১০০ ...
গাছ ফল দেবে, ছায়া দেবে; আরও দেবে নির্মল বাতাস। আশ্রয় নেবে পাখপাখালি, কাঠ বেড়ালি, হরেক রকম গিরগিটি। গাছ থেকে উপকার পাবে মানুষ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ– সবাই। আর এতেই আমি খুশি। ঐতিহাসিক মুজিবনগর আম্রকাননে ছোট ছোট আমগাছের গোড়া পরিচর্যা করার সময় এ কথাগুলো বলেন বৃক্ষ প্রেমিক জহির ...
আম গাছ কে দেশের জাতীয় গাছ হিসেবে ঘোষনা দাওয়া হয়েছে। আর এরই প্রতিবাদে কিছুদিন আগে এক সম্মেলন হয়ে গেলো যেখানে বলা হয়েছে :-"৮৫% মমিন মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। ঈমান আকিদায় দুইন্নার কুন দেশেরথে পিছায় আছি?? আপনেরাই বলেন। অথচ জালিম সরকার ভারতের লগে ষড়যন্ত কইরা আমাগো ঈমানের লুঙ্গি ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২