Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

হাড়িভাঙা আম

রংপুরের আবহাওয়া এবং মাটি আম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তবে সরকার বা কৃষি বিভাগ এবং বেসরকারি পর্যায়ে রংপুরে আম চাষের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের বিষয়ে আধুনিক প্রযুক্তির কোনো প্রচার-প্রচারণা, কর্মশালার আয়োজন হয় না। যে সব কৃষক নিজের থেকে আম চাষ করছেন সরকারি পর্যায়ে তাদের মনিটরিং তো দূরের কথা ন্যূনতম দিকনির্দেশনা বা খোঁজ-খবর নেওয়ারও তথ্য পাওয়া যায় না। অথচ এখানে উত্পাদিত আমের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয় রসালো ও সুস্বাদু আমের নাম ‘হাড়িভাঙা’। এছাড়াও আম্রপালি, সূর্যপুরি, লেংড়া, ফজলি, কুয়া পাহাড়ি, ক্ষিরসাপাত, গোপালভোগ, মিশ্রিভোগসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম উত্পাদন হচ্ছে। এই হাড়িভাঙা আমের মাধ্যমেই রংপুরে আম চাষের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

 

যমুনেশ্বরী নদীর তীর ঘেঁষা রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসুমপুর বাজারের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে জমিদার তাজ বাহাদুর সিংয়ের রাজদরবারে একটি আম বাগানবাড়ি ছিল। সেখান থেকে তেকানি গ্রামের নফল উদ্দীন পাইকার নামে এক ব্যবসায়ী আম কিনে এনে স্থানীয় পদাগঞ্জ বাজারে বিক্রি করতেন। তার মধ্যে একটি আম ছিল খুবই সুস্বাদু ও মিষ্টি। ছয় শতক আগে জমিদারের অনুমতি সাপেক্ষে পাইকার নফল উদ্দীন ওই আমবাগান থেকে ওই আমগাছটির একটি কলম নিয়ে এসে মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়েনের তেকানি গ্রামের নিজ বাড়িতে লাগান। ওই এলাকা বরেন্দ্রপ্রবণ অঞ্চল হওয়ার কারণে পানি দিতে হতো সব সময়। পাইকার নফল উদ্দীনও জীবিকার জন্য সবসময় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতেন। সে কারণে ওই আমগাছটির নিচে তিনি মাটির হাঁড়ি দিয়ে ফিল্টার বানিয়ে তাতে সারাদিন পানি দিতেন। এরই মধ্যে একদিন রাতে কে বা কারা ওই মাটির হাঁড়িটি ভেঙে ফেলে। এরপর ওই গাছে বিপুল আম ধরে। সেগুলো ছিল খুবই সুস্বাদু। সেগুলো বিক্রি করার জন্য বাজারে নিয়ে গেলে লোকজন ওই আম সম্পর্কে জানতে চায়। তখন নফল উদ্দীন বলেন—যে গাছের নিচের হাঁড়িটা মানুষ ভেঙেছিল সেই গাছের আম এগুলো। তখন থেকেই ওই আম ‘হাঁড়িভাঙা আম’ নামে পরিচিতি পায়। এটি কাঁচা অবস্থায় ছালসহ খেলেও মিষ্টি লাগে। এখনো ঐ আমগাছটি আছে তেকানি গ্রামে।

 

যুগোপযোগী পরিকল্পনার মাধ্যমে বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে এই জেলায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে আমের বাগান গড়ে তোলা যায়, যেখান থেকে প্রত্যেক বছর পাঁচ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। শুধুমাত্র রংপুর জেলায় আম চাষের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি আমচাষি, শ্রমিক, ব্যবসায়ীদের পরিবারে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। আমাদের মতে, আলুর মতো আম চাষেও রেকর্ড সৃষ্টির অপেক্ষায় আছে রংপুরের কৃষক সমাজ। শুধু প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ। আমের রাজধানী রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো কৃষি বিভাগের আলাদা অফিস স্থাপন ও গবেষণাগার স্থাপন করা প্রয়োজন। আম, লিচু, কুল, কলা চাষিদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এনসিডিপি প্রজেক্টের মতো আরো বড় ধরনের প্রজেক্টের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতার দ্বার উন্মোচন করা প্রয়োজন। এই গুরু দায়িত্বটি জিকেএফকে নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এটা এই অঞ্চলের কৃষক সমাজের সময়ের দাবি। রংপুর অঞ্চলের গরিব মানুষের পুষ্টির চাহিদা তথা জনগণের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য এবং আমচাষিদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান এবং সারা বছর বাজারে সহজলভ্য করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি হিমাগার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। আম থেকে উপজাত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাদ্য তৈরি করে বাজারজাত করার জন্য এই এলাকায় একটি আম প্রসেসিং কারখানা গড়ে তোলা উচিত। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং এলাকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটবে।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
মালদার আমের কদর দেশজোড়া। কিন্তু বিশ্ববাজারে? সেদিকে নজর রেখেই এবার দিল্লির আম উত্সবে যাচ্ছে মালদা আর মুর্শিদাবাদের বাছাই করা আম। শনিবারই দিল্লি পাড়ি দিচ্ছে চব্বিশ মেট্রিক টন আম।  হিমসাগর, গোলাপখাস থেকে ফজলি। মালদার আমের সুখ্যাতি গোটা দেশে। যেমন স্বাদ, তেমনি গন্ধ। ...
ফলের রাজা আম। আর আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। দেশের সর্ববৃহত্তর অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যলয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। এ জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম। বর্তমানে জেলা সবখানে চলছে বাগান পরিচর্যা ও বেচা-কেনা। বর্তমানে জেলার ২৪ হাজার ৪৭০ হেক্টর আম বাগানে ৯০ ভাগ মুকুল এসেছে। ...
আমাদের দেশে উৎপাদিত মোট আমের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে নষ্ট হয়। প্রধানত বোঁটা পচা ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগের কারণে আম নষ্ট হয়। আম সংগ্রহকালীন ভাঙা বা কাটা বোঁটা থেকে কষ বেরিয়ে ফলত্বকে দৃষ্টিকটু দাগ পড়ে । ফলত্বকে নানা রকম রোগজীবাণুও লেগে থাকতে পারে এবং লেগে থাকা কষ ...
আম রফতানির মাধ্যমে চাষিদের মুনাফা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এজন্য দেশে বাণিজ্যিকভাবে আমের উৎপাদন, কেমিক্যালমুক্ত পরিচর্যা এবং রফতানি বাড়াতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে গাছে মুকুল আসা থেকে শুরু করে ফল পরিপক্বতা অর্জন, আহরণ, গুদামজাত, পরিবহন এবং ...
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার আম সাম্রাজ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা রফতানি পণ্যের তালিকায় উঠে আসার এক মাসের মধ্যেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আম ব্যবসায়ীরা খুবই আগ্রহী হয়ে উঠেছে এখানকার আম তাদের দেশে নিয়ে যাবার ব্যাপারে। যদিও ইতোপূর্বে এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দুই হাজার টন আম ...
রীষ্মের এই দিনে অনেকেরই পছন্দ আম।এই আমের আছে আবার বিভিন্ন ধরণের নাম।কত রকমের যে আম আছে এই যেমনঃ ল্যাংড়া,ফজলি,গুটি আম,হিমসাগর,গোপালভোগ,মোহনভোগ,ক্ষীরশাপাত, কাঁচামিঠা কালীভোগ আরও কত কি! কিন্তু এবারে বাজারে এসেছে এক নতুন নামের আর তার নাম 'বঙ্গবন্ধু'। নতুন নামের এই ফলটি দেখা ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২