Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

পাল্টে যাচ্ছে পাহাড়ের কৃষি

বাংলাদেশের তিন পাহাড়ি জেলায় বাস করে ১৫ রকমের উপজাতি। একটা সময় এসব পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রধান পেশা ছিল জুম চাষ। পাহাড়ের একটি নির্দিষ্ট স্থান পুড়ে নিয়ে তা আগাছা মুক্ত করে পোড়া ছাই মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে প্রস্তুত করা হতো জমি। অতঃপর ধানসহ নানা রকম ফসলের বীজ একত্রে মিশিয়ে নিয়ে জমিতে গর্ত করে দু’চারটি বীজ একেকটি করে গর্তে পুঁতে দিয়ে শুরু হতো জুম চাষ। অতঃপর চলতো নানা রকম পরিচর্যা আর সময়ভেদে একেকটি ফসল সংগ্রহের কাজ। আজও অনেক উপজাতি এ পেশাকে অবলম্বন করে আছে। কোন কোন উপজাতি এর পাশাপাশি অন্য পেশাও আজ গ্রহণ করছে।

এক সময় জুম চাষ দিয়ে সহজেই নির্বাহ করা যেতো সংসার। আজ পাহাড়ি পরিবারে মানুষ বেড়েছে, কমেছে জুম আবাদের জমি। সে কারণেই একই স্থানে ঘন ঘন করতে হচ্ছে জুম চাষ। মাটির উর্বরা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে, হচ্ছে মাটির ক্ষয়ও। ফলে ফলন যাচ্ছে কমে। জুম চাষ করে জীবিকা নির্বাহ এখন তাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাছাড়া সঠিকভাবে বললে সারা দেশেরই মানুষ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাতে বেড়েছে সবরকম খাদ্যের চাহিদা। অথচ পাহাড়ের জমি রয়েছে এখনও অনেকটাই অপরিকল্পিত চাষের আওতায়। কৃষি উন্নয়ন ভাবনায় তাই পাহাড় অগ্রাধিকার পাবে সেটিই স্বাভাবিক। জুম চাষ হয় বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে। জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে শেষে ফসল তুলতে মোট সময় লাগে সাত-আট মাস। বছরের চারটি মাস ধরে সে জমি থেকে যায় পতিত। আর এ সময় কোন ফসল জমিতে না থাকায় জমি থেকে যায় নগ্ন। তাছাড়া জুমে আবাদ করা প্রতিটি ফসলের উৎপাদন বিবেচনায় নিলে হতাশ না হয়ে পারা যায় না।

কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এখন সময়ের দাবী। এমনকি টেকসই পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রতি বর্গ একক জমি থেকে কতটা উৎপাদন নিশ্চিত করা যায় সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে কারণেই সরকার গুরুত্ব দিয়েছে পাহাড়ি অঞ্চলের জমির সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনায়। এগিয়ে এসেছে বহু গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সম্প্রসারণ বিভাগাসহ নানা রকম সরকারি-বেসরকারি উদ্যেক্তাগণ। বহু প্রকল্পের অধিন চলছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে সমন্বিত কৃষি কার্যক্রম পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ করতে। বিশেষ করে ফল ফসল ও মশলা চাষের জন্য এসব কর্মকাণ্ডের স্বাক্ষর পাহাড়ের পথে পথে চোখে পড়ছে ইদানিং বেশ।

কলা পাহাড়িদের এক প্রিয় ফল। এখানকার পাহাড়ের ভেতরে চোখ রাখলে সহজেই চোখে পড়ে নানা রকম বুনো কলা গাছের উপস্থিতি। অঙ্গজ বংশবৃদ্ধি করতে পারে বলে এরা সহজেই বংশবিস্তার করে নেয়। বুঝি সে কারণেই বুনো কলার প্রাচুর্য সহজেই লক্ষণীয় পাহাড়ে পাহাড়ে। এদের এই প্রাচুর্যতা দেখে মনে হয় যেন কলা উৎপত্তির একটি কেন্দ্র বা নিদেন পক্ষে একটি উপকেন্দ্র এই পাহাড়ি অঞ্চল। সে যাই হোক এখানে কলা গাছ রোয়ে দেবার প্রচলন বেশ প্রাচীনকাল থেকে। জুম মাঠে তাকালে দু’চার-দশটি কলা গাছ চোখে পড়বেই। এখন পরিকল্পিতভাবে লাগানো হচ্ছে কলা গাছ। বাংলা কলার গাছই এখানে সিংহভাগ। দুই ঋতুতে এখানে এখন প্রচুর কলা সংগ্রহ করা যায়। বর্ষায় আর শীতে এখানকার পথে ঘাটে সর্বত্রই কলার ছড়ি জমা করতে দেখা যায়।

পাহাড়ের মানুষের কাছে আমও একটি প্রিয় ফল। আগে ঘর বাড়ির আশপাশে বনে জঙ্গলে কেবল আম গাছ দেখা যেতো। ‘রাঙু’ নামের সেই আম ছিল বান্দরবান এলাকার অতি জনপ্রিয় আম জাত। বুকের দিকটায় এক ফালি স্থান ডেবে যাওয়া বৈশিষ্ট্যম-িত এই আমারে বর্ণ বেশ লাল আর এর একটি বিশেষ রকম আমোদে গন্ধ রয়েছে। খেতে মন্দ নয় আম জাতটি। এখনতো সারিবদ্ধভাবে পাহাড়ে লাগানো হয়েছে নানা জাতের আম গাছ। এদের চমৎকার বৃদ্ধিও ঘটছে। পাহাড়ের নগ্ন অংশও তাতে সবুজে ঢাকা পড়ছে। এসব আম গাছে ফল ধরতে শুরু করলে নিঃসন্দেহে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদার প্রাপ্যতা অনেক বৃদ্ধি পাবে। এমনকি এসব ফল চলে যাবে দেশের নানা প্রান্তে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

পেঁপে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আরেকটি প্রিয় ফল। ডিসেম্বরের শেষ দিকে পাহাড়ি পথের ফল সংগ্রের জন্য নির্মিত ঘরগুলোতে আর আঙ্গিনায় পেঁপের বিশাল এক একটি স্তুুপ। পাহাড়িরা এসব পেঁপে কেটে এনে জমা করছে সেখানে। এখান থেকে তা চালান হয়ে যাবে শহরে এবং দূর দূরান্তে। পেঁপেগুলো নানা আকৃতির বটে তবে ঢাউস আকৃতির পেঁপের সংখ্যা কম নয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেল এগুলো অধিকাংশই হাইব্রিড প্রকৃতির পেঁপে। লাগানো হচ্ছে লাইন করে স্থানে স্থানে। এসব ফল চাষে বেড়েছে পাহাড়িদের সম্পৃক্ততা। কাঁচা পয়সা অর্জনের একটি বড় সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে তাদের। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগও তাতে সৃষ্টি হয়েছে।

আনারসের জন্য পাহাড় এক বিখ্যাত স্থান সেই প্রাচীনকাল থেকেই। একটু ছায়াময় স্থানে এই ফলটির নির্বিঘ্নে আবাদ করা যায় বলেই হয়তো নানা রকম গাছগাছালির নিচে আনারসের অঙ্গজ অংশ পুঁতে দিয়ে জন্মানো হয় এখানে আনারস। ভারী দৃষ্টিনন্দনভাবে লাগানো হয় আনারসের চারা। জমি পরিষ্কার করে পাশাপাশি দু’লাইন করে লাগিয়ে যাওয়া হয় চারা, প্রতি দু’লাইন পর পর একটুখানি বেশি করে ফাঁক রাখা হয় এদের পরিচর্যা নিশ্চিত করার জন্য। আনারস চাষ এবং এদের যত্ন নেবার প্রতিও পাহাড়িদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। অনেক নতুন নতুন আনারস বাগান চোখে পড়েছে পাহাড়ে।

লিচুর বাগানও গড়ে তোলা হয়েছে অনেক স্থানেই। ভারী চমৎকার এদের বৃদ্ধি। হয়তো লিচু ধরতেও শুরু করেছে। দেখলাম বড়ই গাছের বাগানও কোথাও কোথাও। জাত বাছাই করে এসব বড়ই চারা সরবরাহ করা হয়েছে। পাহাড়ে কমলারও অল্প কিছু গাছ দেখলাম যেতে যেতে। দেখলাম কাঁঠাল, সুপারি আর নারকেলের গাছ। সবচেয়ে অবাক লেগেছে রাঙ্গুনিয়া থেকে রাঙামাটি যাবার পথে সজনে গাছের সারি দেখে। সজনে গাছের ডাল কেটে কেটে পুতে দেয়া হয়েছে পথের পাশে। এটি একটি অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ সন্দেহ নেই। সহজে বংশবৃদ্ধি করা যায়। সবজি হিসেবে সজনে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। ফল পেতে কষ্ট কম।

শীতকালে চিম্বুক পাহাড়ের নিচের অস্থায়ী ফলের দোকানে চোখে পড়ল একটি চমৎকার আকৃতির কাঁঠাল। এরকম অসময়ের কাঁঠাল দেখে আমার মধ্যে বড় আশাবাদ জেগে উঠলো। উদ্যানতত্ত্ববিদগণ এরকম কাঁঠালের হাজার হাজার চারা করে নিতে পারেন এসব গাছের কাঁঠাল সংগ্রহ করে নিয়ে। মৌসুমে কাঁঠাল এখন বড় সস্তা। তখন আমাদের অবহেলারও শেষ থাকে না। শীতকালে আমাদের দেশি ফলের ঘাটতিও রয়েছে। এসময় কাঁঠাল ধরলে এর আকর্ষণও বাড়বে আর এই সময়ের ফলের ঘাটতিও পূরণ করা যেতে পারে।

জাম্বুরাও চোখে পড়ছে শীতে এসে বান্দরবানে বেশ। দুই রকমের জাম্বুরা দেখলাম। একটির ফল খাড়া প্রকৃতির। সমতলে এটি কম দেখা যায়। ভেতরটা বেশ লাল এবং স্বাদও বেশ। অন্যটি আমাদের সমতল এলাকার মতই উপরে নিচে চ্যাপ্টা গোলাকার জাম্বুরা। কোনটার ভেতরের কোয়া লালতো কোনটার আবার লালচে পেঁয়াজ বর্ণ। জাম্বুরার আবাদও বাড়ানো যায় পাহাড়ে। পাহাড়ে এখন আবাদ করা হচ্ছে সমতলের আমড়াও। বেশ ভালো এদের ফলন সেখানে। আমড়ার আবাদ এলাকা বিস্তৃতির সুযোগ পাহাড়ে রয়েছে। লেবুতো পাহাড়ে চাষ করা হচ্ছে সেই কবে থেকেই। এখানকার লেবুর বৈচিত্র্যও অনেক। এদের স্বাদের ভিন্নতাও বেশি। পাহাড়ের কোন কোন লেবু জাত বীজহীন বলে এরা ভোক্তাদের কাছে অনেক লোভনীয়। এদের অঙ্গজ চারার সংখ্যা বৃদ্ধি করে পাহাড়ে সমতলে দু’জায়গায়ই বৃদ্ধি করা যায় বীজহীন লেবুর আবাদ।

যেতে যেতে পাহাড়ি সমতটে চোখ পড়লো বিদেশি এক ফল ফসলের ওপর। পাহাড়ি এক ফল চাষি এক চিলতে জমিতে ভারী যতœ করে রোপণ করেছে ড্রাগন ফলের চারা। বেশ অবাক হই তাদের সচেতনতার প্রমাণ দেখে। তাছাড়া ফল ফসলের আবাদ বৃদ্ধি করারও এটি একটি স্বাক্ষর।

পাহাড়ে শাকসবিজ আবাদও বৃদ্ধি পেয়েছে আগের তুলনায়। বেড়েছে শাকসবজির বৈচিত্র্যও। এমনকি শীতকালে যেখানেই পানির উৎস রয়েছে সেখানেই চোখে পড়েছে নানা রকম শীতকালীন সবজি ফসল। কমলার জন্যও বেশ প্রসিদ্ধ লাভ করেছে কোন কোন পাহাড়ি অঞ্চল। মরিচতো এখানকার জুম চাষের এক অনিবার্য অণুসরণ। তাছাড়াও একক মরিচ আবাদ দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আদা আর হলুদের গাছ এখানে প্রায়শই চোখে পড়েছে। এর মানে এদের আবাদও বাড়ছে দিন দিন।

পাহাড়ের কৃষির আর একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো ফল বা সবজি চাষ ব্যবস্থাপনার তাৎপর্যময় উন্নতি। সাজানো গোছানো ফলের বাগান পাহাড়ি মানুষদের আগাছা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ফসল ব্যবস্থাপনার দিকে বাড়তি মনযোগেরই সাক্ষ্য বহন করছে। পাহাড়ি মানুষ পরিশ্রমী। ফলে কোন প্রযুক্তি তারা গ্রহণ করলে তা বেশ গুরুত্বের সাথেই গ্রহণ করে। তাছাড়া প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রেও তাদের আগ্রহ এখন অনেকটাই বেড়েছে। নানা রকম প্রকল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও হাতে কলমে শিক্ষা স্পষ্টতই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। পরিকল্পিতভাবে পাহাড়ে শাকসবজি আর ফলমূলের চাষ আরো বৃদ্ধি করা গেলে তা পাহাড়ি ও সমতল উভয় জনগোষ্ঠির জন্য এক তাৎপর্যময় বিষয় হয়ে উঠবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
মালদার আমের কদর দেশজোড়া। কিন্তু বিশ্ববাজারে? সেদিকে নজর রেখেই এবার দিল্লির আম উত্সবে যাচ্ছে মালদা আর মুর্শিদাবাদের বাছাই করা আম। শনিবারই দিল্লি পাড়ি দিচ্ছে চব্বিশ মেট্রিক টন আম।  হিমসাগর, গোলাপখাস থেকে ফজলি। মালদার আমের সুখ্যাতি গোটা দেশে। যেমন স্বাদ, তেমনি গন্ধ। ...
ফলের রাজা আম।বাংলাদেশ এবং ভারত এ যে প্রজাতির আম চাষ হয় তার বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica. এটি Anacardiaceae পরিবার এর সদস্য। তবে পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আম আছে। আমের বিভিন্ন জাতের মাঝে আমরা মূলত ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত/হীমসাগর,  আম্রপালি, মল্লিকা,আড়া ...
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগানগুলোতে আমের ‘মাছিপোকা’ দমনে কীটনাশক ব্যবহার না করে সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহার শুরু হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই ফাঁদকে কোথাও কোথাও ‘জাদুর ফাঁদ’ও বলা হয়ে থাকে। দু-তিন দিকে কাটা-ফাঁকা স্থান দিয়ে মাছিপোকা ঢুকতে পারে, এমন একটি প্লাস্টিকের কনটেইনার বা বোতলের ...
বাড়ছে আমের চাষ। মানসম্পন্ন আম ফলাতে তাই দরকার আধুনিক উত্পাদন কৌশল। আম চাষিদের জানা দরকার কীভাবে জমি নির্বাচন, রোপণ দূরত্ব, গর্ত তৈরি ও সার প্রয়োগ, রোপণ প্রণালী, রোপণের সময়, জাত নির্বাচন, চারা নির্বাচন, চারা রোপণ ও চারার পরিচর্যা করতে হয়। মাটি ও আবহাওয়ার কারণে দেশের ...
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন বয়সী অনেক পুরনো গাছ। এর কোন কোনটি ২০০-৩০০ বছরেরও বেশি বয়সী। আবার কোনটির বয়স তার চেয়েও বেশি। তেমনই ঠাকুরগাঁওয়ের একটি আমগাছের কথা সেদিন জানতে পারলাম ফেসবুকে একজনের পোষ্ট থেকে। একটি আমগাছ যার বয়স নাকি ২০০ বছরেরও ...
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড কাউন্টির ছোট্ট শহর বাউয়েন। ছোট এ শহরের বড় গর্ব একটা আম। আমটি নিয়ে বাউয়েন শহরের মানুষেরও গর্বের শেষ নেই। লোকে তাদের শহরকে চেনে আমের রাজধানী হিসেবে। ৩৩ ফুট লম্বা, সাত টন ওজনের বিশাল এই আমের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার লোকের অভাব হয় না। তবে দিনকয়েক আগে ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২