Smart News - шаблон joomla Создание сайтов
  • Font size:
  • Decrease
  • Reset
  • Increase

মুজিবনগর আম্রকানন স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচর্যা করেন এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান

গাছ ফল দেবে, ছায়া দেবে; আরও দেবে নির্মল বাতাস। আশ্রয় নেবে পাখপাখালি, কাঠ বেড়ালি, হরেক রকম গিরগিটি। গাছ থেকে উপকার পাবে মানুষ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ– সবাই। আর এতেই আমি খুশি। ঐতিহাসিক মুজিবনগর আম্রকাননে ছোট ছোট আমগাছের গোড়া পরিচর্যা করার সময় এ কথাগুলো বলেন বৃক্ষ প্রেমিক জহির শেখ (২৯)। তার স্বেচ্ছাশ্রমের কথা জানতে গিয়ে বের হয়ে আসে বাগান সম্বন্ধে অনেক তথ্য। সরকারি খাতায় হিসাব না থাকলেও তার কাছে আছে মুজিবনগর আম্রকাননের গাছ-গাছালির সঠিক পরিসংখ্যান। তিনি সাদা কাপড়ের ওপর বাগানের মানচিত্র এঁকে সমস্ত গাছপালা ও ফাঁকা স্থানের অবস্থান দেখিয়েছেন। এছাড়াও তিনি প্রতি বছর কোন না কোন সড়কের দুুইপাশে কিছু কিছু গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যা করে থাকেন।

 

মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ভবরপাড়া গ্রামের মরহুম মুক্তিযোদ্ধা দাউদ শেখের ছেলে জহির শেখ। ঐতিহাসিক মুজিবনগর আম্রকানন ঘিরে রয়েছে তার অনেক ভাবনা। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এই আম বাগানে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন করে শপথ নেয়। এ বাগান শুধু বাঙালির গর্বই নয়। দেশে-বিদেশে এ বাগান বিশেষভাবে খ্যাত। মুজিবনগরের একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে এই আম বাগান নিয়ে তার গর্বের শেষ নেই।

 

তিনি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বেলা ১০টা পর্যন্ত আম বাগানের ৩২২টি চারা গাছের পরিচর্যা করেন। জহির শেখের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ১০৫ বিঘা আয়তনের বর্তমান মুজিবনগর আম্রকাননে মোট আম গাছ রয়েছে ১ হাজার ১৪৭টি। এর মধ্যে বড় গাছ ৮২৫টি এবং ছোট গাছ ৩২২টি। এছাড়া বাগানে রয়েছে ২টি বাঁশ ঝাড়, ৭টি কাঁঠাল গাছ, ৭টি বাবলা গাছ, ৬টি নীম গাছ, ১টি পিটুলী গাছ, ২টি তাল গাছ, ৭টি মেহগনি গাছ, ৩টি জাম গাছ, ১টি লিচু গাছ, ৭টি নারকেল গাছ, ৩টি খেজুর গাছ, ৩টি কড়ই গাছ, ১টি শিমুল গাছ ও ২টি কৃষ্ণচূড়া গাছ। তিনি বাগানের কর্মচারী না হলেও তিনি বাগান দেখাশুনা করেন। বাগানে কেউ ডাল-পালা কাটতে গেলে তাদের বাধা দেন। এতে তাদের সাথে মাঝে মধ্যে তার বিরোধ দেখা দেয়। অন্যের গাল মন্দ শুনে তিনি শুধু কষ্টই পান।  প্রতিকার করার কিছু নেই। তিনি মনে করেন বাগান পরিচর্যায় পানি, সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন রয়েছে। যে কারণে তিনি ইতিপূর্বে বহুবার জেলা প্রশাসকদের সাথে কথা বলেছেন। কিন্তু কোন ফল হয়নি। প্রতি বছর তিনি কোন না কোন সড়কের ধারে কিছু কিছু গাছ লাগান। গত বছর তিনি মুজিবনগর বিজিবি ক্যাম্প থেকে উপজেলার বাগোয়ানের রাস্তার দু’ধারে একশ’ কাঁঠালের চারা লাগিয়ে তার পরিচর্যা করেন। মুজিবনগর আম বাগান থেকে ইতিপূর্বে অনেক মরা গাছ সরকারিভাবে কেটে বিক্রি করা হয়েছে। ওইসব ফাঁকা জায়গায় এখনও সাড়ে ৪শ’ আম গাছ লাগানো সম্ভব।

 

মুজিবনগর আম্রকাননকে ঘিরেই ইতিহাস। ওই আম বাগানের মধ্যেই তৈরি করা হয়েছে স্মৃতি সৌধ, রেস্ট হাউজ, অবকাশ কেন্দ্র বাগান সংলগ্ন মুজিবনগর কমপ্লেক্স তৈরি করেছে। কমপ্লেক্সে ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, ডাকঘর, শপিংমল, মসজিদ, এতিমখানা, ৬ স্তরবিশিষ্ট গোলাপ বাগান, হেলিপ্যাড, পর্যটন মোটেল ইত্যাদি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ধরে রাখতে কমপ্লেক্সের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ চলছে বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরির। এসব কারণে মুজিবনগরের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩/৪শ’ বাস, মাইক্রোবাস আসছে মুজিবনগরে। হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ আসছে পিকনিকে, শিক্ষা সফরে এমনকি বিনোদনে। কোটি কোটি টাকার সম্পদ মুজিবনগর আম বাগান থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার ফলকর সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হলেও বাগান দেখাশোনার নেই লোকবল। এলাকাবাসী মনে করে; মুক্তিযুদ্ধের সুতিকাগার মুজিবনগর আম বাগান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থায়ী কেয়ারটেকার দরকার।

 

জহির শেখ প্রতিদিন বাগান পরিচর্যা শেষে ওই আম বাগানের এক ধারে মনোহরি মাল নিয়ে বসেন। বেচা-কেনার পর যা লাভ আসে তাই দিয়ে কোন রকম চলে তার সংসার।

Leave your comments

0
terms and condition.
  • No comments found
মাটি ও আবহাওয়ার কারণে মেহেরপুরের সুস্বাদু হিমসাগর আম এবারও দেশের বাইরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) ভুক্ত দেশগুলোতে রফতানি হতে যাচ্ছে।   গত বছর কীটনাশক মুক্ত আম প্রথম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার ফলে এ অঞ্চলের আমচাষীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দেয়। গত বছর ১২ মেট্রিক টন আম ইউরোপিয়ান ...
ফলের রাজা আম।বাংলাদেশ এবং ভারত এ যে প্রজাতির আম চাষ হয় তার বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica. এটি Anacardiaceae পরিবার এর সদস্য। তবে পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আম আছে। আমের বিভিন্ন জাতের মাঝে আমরা মূলত ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত/হীমসাগর,  আম্রপালি, মল্লিকা,আড়া ...
আমের মৌসুম বাড়ছে আরও এক মাস  কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করে আম পাকা প্রায় এক মাস বিলম্বিত করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন এক উদ্ভিদবিজ্ঞানী আম পাকা শুরু হলে আর ধরে রাখা যায় না। তখন বাজারে আমের সরবরাহ বেড়ে যায়। যেকোনো দামেই বেচে দিতে হয়। তাতে কোনো কোনো বছর চাষির উৎপাদন ...
বাংলাদেশে উৎপাদিত ফল ও সবজির রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক। তবে সম্ভাবনার তুলতায় সফলতা যে খুব যে বেশি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রপ্তানি সংশ্লিষ্ঠ ব্যাক্তিবর্গ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্নভাবে তাদের প্রচেষ্ঠা অব্যহত রেখেছেন। কিন্তু এদের সুনির্দিষ্ট কোন কর্ম পরিকল্পনা নেই বললেই চলে। ...
ফলের রাজা আম এ কথাটি যথাযথই বাস্তব। ফলের মধ্যে এক আমেরই আছে বাহারি জাত ও বিভিন্ন স্বাদ। মুখরোচক ফলের মধ্যে অামের তুলনা নেই। মৌসুমি ফল হলেও, এর স্থায়িত্ব বছরের প্রায় তিন থেকে চারমাস। এছাড়া ফ্রিজিং করে রাখাও যায়। স্বাদ নষ্ট হয় না। আমের ফলন ভালো হয় রাজশাহী অঞ্চলে। ...
আম গাছ কে দেশের জাতীয় গাছ হিসেবে ঘোষনা দাওয়া হয়েছে। আর এরই প্রতিবাদে কিছুদিন আগে এক সম্মেলন হয়ে গেলো যেখানে বলা হয়েছে :-"৮৫% মমিন মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ। ঈমান আকিদায় দুইন্নার কুন দেশেরথে পিছায় আছি?? আপনেরাই বলেন। অথচ জালিম সরকার ভারতের লগে ষড়যন্ত কইরা আমাগো ঈমানের লুঙ্গি ...

MangoNews24.Com

আমাদের সাথেই থাকুন

facebook ফেসবৃক

টৃইটার

Rssআর এস এস

E-mail ইমেইল করুন

phone+৮৮০১৭৮১৩৪৩২৭২